বিশ্বসভ্যতা মিশর, সিন্ধু, গ্রিক ও রোম এর ইতিহাস Techbd720

বিশ্বসভ্যতা প্রাচীনতম সভ্যতা, বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা, বিশ্বের প্রথম সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা, গ্রিক সভ্যতা, Techbd720 রোমান সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা,

মিশরীয় সভ্যতা:

পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা হলো মিশরীয় সভ্যতা । খ্রি.পূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে প্রথম রাজবংশের শাসন শুরু হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য হতে জানা যায় যে ঐ সময় থেকে সর্বপ্রথম লিখিত ইতিহাস রচনার সূত্রপাত ঘটে।

আমরা জানি যে, যখন থেকে ইতিহাস লিখিতভাবে পাওয়া যায় তখন থেকে ঐতিহাসিক যুগের শুরু। সুতরাং ঐ সময় হতে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয় ।কৃষি উন্নয়নে মিশরীয় সভ্যতার আবিষ্কার।

মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা জ্যোতিশাস্ত্র ও অংকশাস্ত্রের আয়ত্ত করে। খ্রি.পূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। ৩৬৫ দিনে বছর- এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা। এছাড়া তারা সূর্যঘড়ি, জলঘড়ি ও ছায়াঘড়ি আবিষ্কার করে । কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখে।
 

মিশরীয় সভ্যতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা কেমন ছিল?

ব্যবসা-বাণিজ্যে মিশর ছিল অগ্রগামী। মিশরে উৎপাদিত গম, লিলেন কাপড় ও মাটির পাত্র ক্রীট দ্বীপ, ফিনিশিয়া- ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় রপ্তানি হতো।

বিভিন্ন দেশ থেকে মিশরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতির দাঁত, কাঠ ইত্যাদি আমদানি করত। শিল্পক্ষেত্রেও মিশরীয়দের মেধা ছিল। তারা পাথরশিল্প, কাঁচ ও বয়নশিল্প, মাটির পাত্র, নৌযান তৈরিতে পারদর্শী ছিল।

সিন্ধু সভ্যতা :

তৈলা পূর্ব বাসাবো স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাক উত্তর: সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি এবং উৎপন্ন ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া এ সভ্যতার অর্থনীতির আর একটি বড় দিক ছিল পশুপালন।

কৃষি ও পশু পালনের পাশাপাশি মৃৎপাত্র নির্মাণ, ধাতুশিল্প, বয়নশিল্প অলংকার নির্মাণ, পাথরের কাজ ইত্যাদিতেও তারা যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল।


সিন্ধু সভ্যতাকে নগর সভ্যতা বলা হয় কেন?


নগরকে কেন্দ্র করে সভ্যতা গড়ে উঠায় সিন্ধুকে নগর সভ্যতা বলা হয়। নগরকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় সিন্ধু সভ্যতা অন্য যেকোনো সভ্যতার তুলনায় অনেক উন্নত। তাদের নগরীর ভিতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা।

রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কৃপ ও স্নানাগার ছিল । জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট নর্দমাগুলো মূল নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতো। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট, মূলত এ সমস্ত নগরকেন্দ্রিক কার্যকলাপের জন্য সিন্ধু সভ্যতাকে নগর সভ্যতা বলা হতো।

গ্রিক সভ্যতা :

গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলোতে অলিম্পিক খেলার সময় যুদ্ধ বন্ধ থাকত। এ খেলায় বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করতো। প্রতি চার বছর পর পর এ খেলা অনুষ্ঠিত হতো।

এ খেলাকে ঘিরে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার স্থলে সৌহাদ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে। তাছাড়া অলিম্পিক খেলা গ্রিকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

সাহিত্যে গ্রিকদের অবদান।


সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানবসমাজে মূল্যবান সম্পদ। হোমারের ‘ইলিয়াড' ও' ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন। সাহিত্য ক্ষেত্রে গ্রিসের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়।

গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার সোফোক্লিস রচিত বিখ্যাত নাটক ছিল রাজা অয়দিপাউস,আন্তিগোনে ও ইলেকট্রা। ইতিহাস রচনায়ও গ্রিকরা কৃতিত্বের দাবিদার।

গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাস ছিলেন ইতিহাসের জনক। বিয়োগান্তক নাটক রচনায়ও গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এসকাইলাসকে এ ধরনের নাটকের জনক বলা হয়।


নগররাষ্ট্র স্পার্টা ছিল সামরিক ছাউনি।


নগররাষ্ট্র স্পার্টা অন্যান্য নগররাষ্ট্র থেকে আলাদা ছিল। স্পার্টানদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমরতন্ত্র দ্বারা তারা প্রভাবান্বিত ছিল।

এবং মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি।স্পার্টার সমাজ তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরে।

সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। সামরিক দিকে অত্যধিক মনোযোগ দেওয়ার কারণেই নগররাষ্ট্র স্পার্টা ছিল সামরিক ছাউনি।

গ্রিকদের ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা ।


উত্তর: গ্রিকদের বারটি দেব-দেবী ছিল । বিভিন্ন প্রকৃতিক শক্তি পূজা ছাড়াও তারা বীর যোদ্ধাদের পূজা করতো। জিউস ছিলেন দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডিন ছিলেন সাগরের দেবতা।

এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারজনের মধ্যে চারজনই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন।

রোমান সভ্যতা ;


খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫৩-এ রোমান সভ্যতার পত্তন হয়। টাইবার নদীর তীরেএ সভ্যতার অবস্থান। এর অধিবাসীরা প্যাট্রিসিয়ান ও প্লিবিয়ান শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।

রোম সম্রাট অগাস্টাস সিজারের সময় যিশু খ্রিষ্টের জন্ম হয়। ১২টি ব্রোঞ্জপাতে রোমানরা প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করে। 
কলোসিয়াম রোমান স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে এ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।


রোমান সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান।


ইতালির মাঝামাঝি পশ্চিমাংশের রোম নগরকে কেন্দ্র করে রোমান সভ্যতার উন্মেষ। ইউরোপ মহাদেশের দেশ ইতালির দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর থেকে উত্তর দিকে আল্পস পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইতালি ও যুগোস্লাভিয়ার মাঝখানে আড্রিয়াটিক সাগর অবস্থিত। গ্রিসের তুলনায় এখানকার কৃষি জমি ছিল উর্বর এবং প্রাচীন রোম ছিল কৃষিনির্ভর দেশ।
LihatTutupKomentar