সেলফিন একাউন্ট কি। সেলফিন একাউন্ট খোলার নিয়ম - Techbd720
কোনো প্রকার ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াই ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা ভোগ করার জন্য সেলফিন অন্যতম। মোবাইল ব্যাংকিং এর আওতাভুক্ত যে সকল লেনদেন উপায় গুলো আছে ( বিকাশ, নগদ, রকেট) তাদের থাকে একটি লিমিটেড স্থান পর্যন্ত সেবা গ্রহন করা যায়। কিন্তু একটি ব্যাংক একাউন্ট এর মাধ্যমে সকল ধরনের সেবা গ্রহন করা যায়।
আরো দেখুনঃ ট্যাপ একাউন্ট খুলার নিয়ম
প্রিয় পাঠক বৃন্দ আমাদের আজকের পোষ্টের মূল বিষয় সেলফিন ব্যাংকিং সেবা নিয়ে বিস্তারিত ধারনা প্রদান করা। সেলফিন সম্পর্কে অনেকেই জানেন না সেলফিন কি, সেলফিন ব্যাবহারের সুবিধা গুলো কি কি? সেলফিন একাউন্ট খোলার নিয়ম, সেলফিন একাউন্ট খোলার জন্য কি কি লাগবে ইত্যাদি সকল কিছু পাবেন আজকের আর্টিকেলে।
সেলফিন কি
ইসলামি ব্যাংক কতৃক একটি ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এখানে, ব্যাবহার কারীরা স্মার্টফোনে এপস এর মাধ্যমে নির্ধারিত ওয়ালেট থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহন করতে পারবেন।
সেলফিন দিয়ে ব্যাংকিং করার সুবিধাগুলো
সেলফিন দিয়ে অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর সকল সুবিধা ভোগ করা যাবে। নিম্নে সেলফিন দিয়ে ব্যাংকিং করার কয়েকটি সুবিধা দেয়া হলোঃ-
১- সেলফিন একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনাকে ব্যাংকের কাছে যেতে হবে না। আপনি ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সাবমিট করে সেলফিন এপ থেকে নিজেই সহজ পদ্ধতি তে সেলফিন ওয়ালেট স্বক্রিয় করতে পারবেন।
২- যে কোনো নাম্বারে ইন্সটান্ট রিচার্জ সুবিধা৷ মোবাইল ফোনে টপাপ করার জন্য ঝামেলার প্রয়োজন হবে না।
৩- আপনার সেলফিন এর ওয়ালেট যদি খালি হয়ে যায় তাহলে সেলফিন ব্যাবহার করে এমন পরিচিত যদি আপনার থাকে তাহলে সেলফিন থেকে "রিকোয়েস্ট মানি" করতে পারবেন।
৪- অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় ব্যাংক থেকে টাকা ব্যাংকিং সেবায় টাকা তুলতে অতিরিক্ত ফি দেয়া লাগে। সেলফিন এপ এ ইসলামি ব্যাংক থেকে টাকা ডিপোজিট করতে পারবেন কোনো প্রকার অতিরিক্ত ফি প্রদান করা ছাড়াই।
৫- সেলফিন থেকে সরাসরি Mcash ও Mcash থেকে টাকা আদান প্রদান এর সুবিধা।
৬- সেলফিন সেবা ব্যাবহার করা যাবে বিশ্বের অন্যন্য দেশে৷
৭- রেমিট্যান্স এর টাকা সেলফিন এ আনার সুবিধা।
৮- শপিং বা যে কোনো ইউটিউলিটি বিল, ইলেক্ট্রিসিটি বিল, ইন্টারনেট বিল দেয়ার সুবিধা।
৯- সেলফিন এর জন্য নির্দিষ্ট ফান্ড তৈরি করতে পারবেন। সেখানে সেলফিন মাধ্যমে টাকা ডিপোজিট করা যাবে।
১০- ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড থেকে সেলফিনে টাকা আনার সুবিধা রয়েছে।
১১- অনলাইন গেট ওয়ের মাধ্যমে অনলাইন শপিং সেন্টার বা ই-কমার্স সাইটে পেমেন্ট করা যাবে।
১২- সরকারি যে কোনো সেবা গ্রহন করা যাবে।
১৩- এটিএম বুথ, এজেন্ট ব্যাংকিং বা সেলফিন এর যে কোনো ব্রাঞ্চ থেকে সরাসরি টাকা উত্তোলনের সুবিধা।
১৪- লেনদেন এর সকল স্টেটমেন্ট ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি অএয়ে যাওয়ার সুবিধা।
১৫- যেহেতু এটা একটি ব্যাংক সেবার আওতায় রয়েছে তাই এর টাকা লেনদেন বা ডিপোজিট করতে সংশয় এর জন্ম হয়না।
সেলফিন একাউন্ট খোলার জন্য কি লাগবে?
সেলফিন একাউন্ট খুলতে তেমন কোনো ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয় না। যে সকল জিনিস গুলো একটি নতুন সেলফিন একাউন্ট করতে লাগবে সেগুলো হলোঃ-
- একটি মোবাইল ফোন। যার এন্ড্রয়েড ভার্সন ৫.০ এর উপরে।এ ছাড়া সেলফিন এপ ইন্সটল করা যাবে না। ক্যামেরা যেন অবশ্যই ভালো হয়৷
- একটি স্বক্রিয় মোবাইল নাম্বার।
- জাতীয় পরিচয় পত্র বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড।
উপরের এই ৩ টি জিনিস আপনার কাছে থাকলে আপনি সহজেই সেলফিন একাউন্ট তৈরির নিয়ম জেনে একাউন্ট বানাতে পারবেন। এ সকল জিনিস গুলো যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে নিচের দেয়া নিয়ম অনুযায়ী সেলফিন একাউন্ট তৈরি করে নিন।
সেলফিন একাউন্ট ওপেন করা নিয়ম
উপরে দেয়া আছে কোন কোন ডকমেন্টস প্রয়োজন একটি সেলফিন একাউন্ট বানানোর জন্য। এগুলো যদি আপনার থাকে তাহলে দেখে নিন সেলফিন একাউন্ট ওপেন করার নিয়ম-
১ম ধাপঃ সেলফিন একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে সেলফিন এর অফিসিয়াল এপ আপনার ফোনে ইন্সটল করে নিতে হবে। আপনি যদি এন্ড্রয়েড ব্যাবহার কারী হয়ে থাকেন তাহলে প্লে স্টোরে গিয়ে লিখুন "Cellfin" এর পরে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে পাবলিশকৃত এপটি আপনার ফোনে ইন্সটল করে নিন। অথবা আপনি চাইলে এখানে ক্লিক করে সরাসরি প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিন। (https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ibbl.cellfin)
২য় ধাপঃ সেলফিন এপ ইন্সটল হয়ে গেলে এবার ওপেন করুন। ওপেন লগ ইন ও রেজিস্ট্রেশন এর মত একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এখান থেকে " Registration" বাটনে ক্লিক করুন।
৩য় ধাপঃ এর পরে আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে সেলফিন একাউন্ট খুলতে চান তাহলে Bangladesh অপশন সিলেক্ট করুন আর বাহিরের দেশে হলে Abroad সিলেক্ট করুন। নিচের দিকে যদি আপনার ব্যাংক একাউন্ট থাকে তাহলে সেটার মাধ্যমে খুলতে পারবেন আর না থাকলে ন্যাশনাল আইডি কার্ড সিলেক্ট করে দিন।
৪র্থ ধাপঃ আপনার মোবাইল নাম্বারের অপারেটর সিলেক্ট করে নাম্বার ও সেলফিন এর একাউন্ট সুরক্ষার ৬ সংখ্যার একটি পিন নাম্বার দিন। এর পরে রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করুন।
৫ম ধাপঃ এর পরে আপনার দেয়া নাম্বার টি তে একটি ভ্যারিফেকসন কোডের মেসেজ আসবে সেটা দিয়ে দিয়ে দিন।
৬ষ্ঠ ধাপঃ এবার আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সামনের ও পিছনের ছবি তুলুন। যদি ছবি ঝাপসা হয়ে আসে তাহলে হবে না। ভালোভাবে ফোকাস করে পরিস্কার ছবি তুলুন।
৭ম ধাপঃ ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ছবি দেয়া হয়ে গেলে আপনার আইডি কার্ডের সকল তথ্য দেখাবে৷ যেমন ( থানা, উপজেলা, নাম, হোল্ডিং নাম্বার, ছবি) ইত্যাদি যদি কোথাও ভূল থাকে সেটা ঠিক করে দিবেন ভালো করে দেখে৷
৮ম ধাপঃ এবার আপনার ছবি তুলে সম্পন্ন করতে হবে। নিজের ছবি তোলার সময় খেয়াল রাখবেন অবশ্যই শুধু মুখমণ্ডল কে রাখার জন্য। চোখের রেটিনা স্কান করে আপনার আইডি কার্ডের সাথে মিল খুজবে এ ক্ষেত্রে চোখে চসমা পড়ার প্রয়োজন নেই। ছবি তোলার সময় বার বার চোখের পলক ফেলা প্রয়োজনীয়।
উপরের সব গুলো ধাপ যদি সফল ভাবে পার করতে পারেন তাহলে কয়েক কার্যদিবস এর মধ্যে আপনার সেলফিন একাউন্ট একটিভ হয়ে যাবে। সাধারণত সব সঠিক ভাবে দিলে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।
যেসব মাধ্যম থেকে এড মানি করা যাবে
অনেক গুলো মাধ্যমের মাধ্যমে সেলফিন একাউন্টে টাকা এড মানি করার সুযোগ রয়েছে যেগুলো হলো-
ব্যাংক একাউন্টঃ সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া ইন্সট্যান্ট সেলফিনে টাকা এড মানি করতে পারবেন।
এমক্যাশঃ এমক্যাশ থেকে সরাসরি এড মানি করতে পারবেন সেলফিন একাউন্টে।
ভিসা বা মাস্টার কার্ডঃ আপনার যদি ভিসা বা মাস্টার কার্ডে টাকা থাকে সেটা সেলফিনে এড মানি করার সুবিধা রয়েছে৷
দিনারঃ আপনি যদি আরব এর প্রবাসি হয়ে থাকেন তাহলে দিনার থেকে সরাসরি আপনার সেলফিন একাউন্টে টাকা এড মানি করতে পারবেন। যেটা মূলত রেমিট্যান্স এর মধ্যে পরে থাকে।
সেলফিন ব্যবহারের খরচ
সেলফিনে কিছু কিছু স্থানে কিছু নির্দিষ্ট পরিমান চার্জ রাখা হয়। সেলফিন ব্যাবহারের খরচ নিম্নে দিয়ে দিলাম।
১- ইসলামি ব্যাংক বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে কোনো চার্জ ছাড়া টাকা এড মানি করতে পারবেন।
২- ইসলামি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড (খীদমাহ) থেকে এড মানি করলে "০.৭% ও ভ্যাট" কাটা হবে।
৩- ইসলামি ব্যাংক ব্যাতিত অন্য কোনো ব্যাংক থেকে এড মানি তে "২%" হারে চার্জ প্রযোজ্য।
৪- এম ক্যাশ থেকে এড মানি তে "১%" চার্জ।
৫- ফান্ড ট্রান্সফার এর জন্য "০.০০৩%" চার্জ।
৬- এটিম থেকে টাকা উঠানো কোনো চার্জ নেই।
৭- রেমিট্যান্স, পেমেন্ট, সেলফিন টু সেলফিন কোনো চার্জ প্রযোজ্য নয়।
সেলফিন একাউন্ট ডিলিট
সেলফিন একাউন্ট এর সাবস্ক্রিপশন অফ করতে পারবেন এপ সেবা এর মাধ্যমে। আপনি যদি কোনো প্যাকেজে মাইগ্রেট হয়ে থাকেন তাহলে সেটা কে আনসাবক্রিপসন করে দিতে হবে। বিস্তারিত ভাবে বুঝতে হলে বা একাউন্ট ডিজেবল করতে সেলফিন কাস্টমার কেয়ার এর সহায়তা গ্রহন করতে পারেন।
সেলফিন হেল্পলাইন
পিন কোড ভুলে গেলে ওটিপি কোড পাওয়ার জন্য সেলফিন হেল্পলাইনে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়াও যে কোনো প্রয়োজনের জন্য রয়েছে সেলফিন হেল্পলাইন। সেলফিন এর কল সেন্টার হেল্প লাইন নাম্বার হলো " ১৬২৫৯"। এ নাম্বারে ফোন করে সেলফিন এর সকল জিজ্ঞাসা বা সাহায্য পাবেন। আপনি যদি সরাসরি সাহায্য নিতে চান সেক্ষেত্রে সেলফিন এর অফিসিয়াল ব্রাঞ্চ গুলোতে যেতে হবে। অথবা এজেন্ট ব্যাংকিং বা বুথ ব্যাংকিং থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করতে পারবেন। সেলফিন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানা থেকে আপনার অজানা তথ্য গুলোকে জেনে নিতে পারেন।
সেলফিন কেনো ব্যবহার করবেন
সম্পুর্ণ আর্টিকেল যদি আপনার পড়া হয়ে যায় নিশ্চিত ভাবেই আপনি বুঝে গেছেন সেলফিন কেন ব্যাবহার করবেন৷ আমাদের দেশে প্রচুর ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে আলাদা করে একটি ব্যাংক একাউন্ট করতে হবেনা৷ আপনার সব টাকা আপনি সেলফিন একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। অনলাইনে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দের কাছেও এটি সমান ভাবে জনপ্রিয়। যেহেতু এটাতে অতিরিক্ত কোনো ফি নেই রেমিট্যান্স এর ক্ষেত্রে তাই আপনার টাকা থেকে অতিরিক্ত কেটে নেয়ার ভয় থাকবেনা।
বাংলাদেশের আর কোনো এপ বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা নেই যেটা আপনাকে ইন্সট্যান্ট কার্ড প্রদান করে থাকে। অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চেয়ে ক্যাশ আউট ফি অনেক বেশী কম। ইসলামি ব্যাংকের দাবির মতে সেলফিন এপ এ ক্যাশয়াউট ফি অন্যন্য মোবাইল ব্যাংকিং এর তুলনায় ১৫ গুন কম হয়ে থাকে। দেশের এখন এমন অবস্থা যে ব্যাংকিং সেবা গুলোর ক্যাশ আউট ফি এত বেশী হয়ে থাকে যা গ্রাহক এর দুর্ভোগ এর একমাত্র একটা কারন। রেমিট্যান্স এর টাকা পিন কোডের মাধ্যমে গোপন ভাবে আনার সুবিধা। গ্রাহকের যদি কোনো একাউন্ট না থাকে সেক্ষেত্রেও আপনি চাইলেই সেলফিন থেকে টাকা পাঠাতে পারবেন।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত আরো ভাবে বুঝতে হলে অবশ্যই সেলফিন এর ব্রাঞ্চ গুলো থেকে এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে ভালোভাবে আইডিয়া নিতে হবে। এ ছাড়া চাইলে এর সাথে ব্যাংক একাউন্ট কানেক্ট করে যে কোনো মুহুর্তে একটি ভার্চুয়াল কার্ড বানিয়ে নিতে পারবেন। যে টা অন্যন্য ব্যাংকে অনেক টা কঠিন।
শেষ কথা
সেলফিন একাউন্ট খোলার নিয়ম ও সেলফিন একাউন্ট এর সুবিধা- অসুবিধা সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আপনাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি হয়ত। কোনো বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের মন্তব্য করে জানাতে পারেন। আপনি যদি সেলফিন একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম জেনে উপকৃত হয়ে থাকেন তবে সেটাই লেখকের পরিতৃপ্তি৷ বর্তমানে সেলফিন ব্যাবহার কারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ও তাদের সেবার মান অনেক ভালো করেছে পূর্বের তুলনায়৷ আপনি নিশ্চিত ভাবেই এটি ব্যাবহার করতে পারেন। এতক্ষন ধরে আর্টিকেল টি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

