ইউটিউব স্টুডিও কি? কেন এত এটি গুরুত্বপূর্ণ - What is Youtube Studio

ইউটিউব স্টুডিও কি? What is Youtube Studio ইউটিউব স্টুডিও কি ২০২২ কেন এত এটি গুরুত্বপূর্ণ - What is Youtube Studio 2022

ইউটিউব এর ভিডিও গুলোকে আরো ভালো ভাবে এসএইও,  অপ্টিমাইজ,  কপিরাইট ইশ্যু সমাধান করতে ব্যাবহৃত  হয়ে থাকে। সাধারণ ইউজার দের জন্য ইউটিউব স্টুডিওর প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। তবে আপনি যদি নতুন ইউটিউবিং শুরু করে থাকেন তাহলে আপনার এটি সম্পর্কে ভালোভাবে আইডিয়া নিতেই হবে। আপনি যদি নতুন কোনো ইউটিউবার হয়ে থাকেন খেয়াল করলে দেখবেন আপনার কাংখিত ভিডিও টি আপলোড ও পাবলিশ করার পর আপনাকে একটি অপশন তথা "ইউটিউব স্টুডিওর" মধ্যে নিয়ে যাবে। 

ইউটিউব স্টুডিও কি?  কেন এত এটি গুরুত্বপূর্ণ - What is Youtube Studio


সাধারণত ইউটিউব এর ভিডিও গুলো যদি দক্ষ ভাবে এসএইও না করা হয় সেক্ষেত্রে আপনার ভিডিও গুলোকে গুগল কখনোই ইম্প্রেসন করাবেনা।  একটি ভিডিও আপলোড করেই একটা ইউটিউবার এর কাজ শেষ হয়ে যায়না।  একটি ভিডিওর পাশাপাশি তার সাথে থাকা "থাম্বেইল ইমেজ" টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।  ধারনা করা হয় যে,  ইউটিউব এর থাম্বেইল দেখেই ৮০% মানুষ ভিডিও ক্লিক করে থাকে।  এখন,  আপনি যদি ভালোভাবে থাম্বেল করে কাস্টম আপলোড করতে চান তাহলে ইউটিউব স্টুডিও এর সহায়তা আপনাকে নিতে হবেই৷  এরকম গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলোর জন্য সাধারণত ব্যাবহার করা হয় ইউটিউব স্টুডিও কে।  

সেরা মাইক্রো জব সাইট 2022

তো বন্ধুরা,  আমাদের আজকের পোষ্টে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরবো ইউটিউব স্টুডিও সম্পর্কে ।  কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়ার জন্য সহায়তা করে ইউটিউব স্টুডিও।  ইউটিউব স্টুডিও আপনি কেন ব্যাবহার করবেন।  কোন কোন কাজে ইউটিউব স্টুডিও কাজে লাগে ইত্যাদি সব কিছু থাকছে আজকের আলোচনা মূল বিষয়বস্তু।  

YouTube স্টুডিও কি?

Youtube স্টুডিও একটি ইউটিউবের তৈরি একটা টুলস।  যা দিয়ে আপনি সহজেই আপনার আপলোড করা ভিডিও তে ট্যাগস ব্যাবহার করতে পারবেন, কোনো প্রকার কপিরাইট ইশ্যু থাকলে সেটা সমাধান করতে পারবেন, কাস্টম থাম্বেইল ইমেজ আপলোড করতে পারবেন, ভিউয়ারস এর এনালাইটিক্স দেখতে পারবেন।  ইউটিউব স্টুডিও সরাসরি ইউটিউব চ্যানেলের "ড্যাশবোর্ড" থেকেই ব্যাবহার করতে পারবেন।  তবে যদি আপনার কাছে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকে তবে মোবাইলেও ব্যাবহার করতে পারবেন ইউটিউব স্টুডিও এপ টি।  


এটি প্লে স্টোরে অ্যাপ্লিকেশন,  এপল স্টোরে আইওএস এবং এটি গুগল এর  অফিসিয়াল একটি অ্যাপ বা অ্যাপ্লিকেশন। নিজের সম্পুর্ন চ্যানেল টি কে সহজেই কন্ট্রোল করতে ইউটিউব স্টুডিও এর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে।  যে কোনো ভিডিওর ভিজিবিলিটি পরিবর্তন,  নতুন ট্যাগস সরবরাহ করা,  কোন ভিজিটর গুলো আপনার ভিডিও গুলো বেশী দেখে  তথা এক কথায় আপনার ইউটিউব ভিডিওর অডিয়েন্স এর তালিকা থেকে বুঝতে পারবেন কোন বয়সের মানুষ গুলো গড়ে বেশী আপনার ভিডিও টি দেখে থাকে।  


একজন ইউটিউবার এর জন্য এটা জানা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।  অডিয়েন্স সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা পেলে ভিডিও  টপিক এর অভাব বোধ হয়না কখনোই।  খুব সহজেই ইউটিউব এর ভিডিও গুলোকে ও ভাইরাল করা যায়।  

Youtube Analytics শিখুন 


আপনার ভিডিও টি সঠিক ভাবে ইউটিউবে ইম্প্রেসন হচ্ছে কিনা,  অন্যান্য ইউটিউব ইউজার দের কাছে যাচ্ছে কি না এ সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হলে শিখতে হবে ইউটউব এনালাইটিক্স।  ইউটিউব এনালাইটিক্স এর মাধ্যমে সহজেই আপনার ভিডিও কত টা র‍্যাংকে রয়েছে এটা জানতে পারবেন।  কোন কোন ট্যাগস গুলোর মাধ্যমে আপনার ভিডিও টি ভালো র‍্যাংক করে এটা দেখতে পারবেন।  


ইউটিউব এনালাইটিক্সে আপনি ৩ টি অপশন পাবেন। যেগুলো যথাক্রমে- 

  • Overview: এখানে আপনি আপনার ভিডিওর ভিউজ গুলো কাউন্ট করতে পারবেন।  অর্থাৎ একটি ভিউয়ারস কত মিনিট, সেকেন্ড, ঘন্টা আপনার ভিডিও টি দেখেছে। কোন মাসে আপনার ভিউজ এর পরিমান বেশী ও কম ছিল।  নিচে থেকে রিয়েল টাইম ভিউজ অর্থাৎ তখন আপনার ভিডিওগুলি যদি কেউ প্লে করে থাকে তাহলে সেখানে সে সংখ্যাটা আসবে। 
  • Content: এই অপশনে আপনি আপনার বানানো সকল কন্টেন্ট এর ভিউজ গুলো দেখতে পারবেন।  কোন কন্টেন্ট এর ভিউ বা ওয়াচটাইম বেশী হয়েছে সেগুলা দেখা যাবে।  ইউটিউব ভিডিও ও শর্টস এর ভিডিও এর তথ্য ও দেখা যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস যা হলো,  আপনার ভিডিও টি ভিউয়ার্স রা কিভাবে পেয়েছে।  কেউ হয়তো সার্চের মাধ্যমে পেয়েছে, কেউ হয়তো সরাসরি লিংকের মাধ্যমে পেয়েছে আবার কেউ হোম পেজে পেয়েছে। আপনার ভিজিটর কিভাবে এসে আপনার ভিডিও কতটুকু দেখেছে ইত্যাদি দেখার কাজে ব্যাবহার করা হয়।  
  • Audience: ইউটিউব স্টুডিও ব্যাবহার করে এখান থেকে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা যায় ।  যা আপনার ইউটিউব চ্যানেল কে অনেক বেশী গ্রো করতে সহায়তা করবে।  এখানে,  আপনি রিটার্নিং ভিউয়ারস দের দেখতে পাবেন।  সহজ করে বললে,  আপনার একটি ভিডিও একজন ভিউয়ার দেখে চলে গেল পরের দিন এক এই ব্যাক্তি যদি আবার ভিডিও গুলো দেখতে আসে তবে সেটা রিটার্নিং ভিউস হিসেবে কাউন্ট করা হয়।  

আপনার ভিউয়ারস এর বয়স সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা পাবেন এখান থেকে।  কোন বয়সের মানুষ গুলো আপনার ভিডিও গুলো দেখতেছে সে অনুযায়ী আপনার পরের কন্টেন্ট গুলো বানালে বেশী সফলতা আশা করা যায়।  এ ছাড়াও আপনার ভিউয়ারস ছেলে নাকি মেয়ে সেটা ও যাচাই করে নিতে পারবেন।  এ ছাড়াও একটি চ্যানেল কে গ্রো করার জন্য  যে সকল ইনফরমেশন গুলো বেশী প্রয়োজন সেগুলার সব এই আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন ইউটিউব স্টুডিও ব্যাবহার করার মাধ্যমে।  

ইউটিউব স্টুডিও কেন গুরুত্বপূর্ণ 

আপনি যখন এই লেখার এ পর্যন্ত পড়তেছেন তার মানে হলো আপনি একজন ইউটিউবার হতে চান।  তবে ইউটিউব স্টুডিও এর সঠিক ব্যাবহার করতে পারেন নি বিধায় আপনার তেমন কোনো ভিউজ ইউটুব থেকে আসছে না। একটা ভিডিও কে ভাইরাল করা বা ভিউয়ার পর্যন্ত পৌছাতে হলে ইউটিউব স্টুডিও এর কোনো বিকল্প নেই।  উপরে দেয়া এনালাইটিক্স থেকেই বুঝে গেছেন।  এ ছাড়াও আপনার কী-ওয়ার্ডস বা ট্যাগস ব্যাবহার করতে হলে ইউটিউব স্টুডিও ব্যাবহার করতে হবে।  


কোনো সাউন্ড ক্লিপ বা কোনো ফুটেজ এর জন্য যদি কোনো কপিরাইট আসে সেক্ষেত্রে ইউটিউব স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার ভিডিও টি ডাউন করে দিবে।  এ জন্য আপনারা ইউটিউব স্টুডিও ব্যাবহার করে কোন ক্লিপে বা সাউন্ডে কপিরাইট এসেছে সেটা সনাক্ত করতে পারবেন ও পরিবর্তন করে কপিরাইট সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাবেন।  আর আপনার চ্যানেল টি যদি মনিটাইজেসন হয় গুগল দ্বারা তাহলে কোন ভিডিও তে কত টি এডস শো হয়েছে,  কত টাকা আয় হয়েছে ইত্যাদি সব দেখতে পাবেন।  

কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হবেন 


ইউটিউবে সফলতা পাওয়া যেমন অনেক কঠিন ঠিক ততটাই সহজ যদি আপনি সঠিক ভাবে ইউটিউব স্টুডিওর কাজ গুলো সম্পর্কে জেনে থাকেন।  ইউটিউব এর মূল বৈশিষ্ট এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে জিনিস গুলোকে ফোকাস দেয়া হয় তা হলো- কাস্টম থাম্বেইল ও ট্যাগস।  ট্যাগস গুলোকে সঠিক ভাবে প্লেস করার মাধ্যমে একটি ভিডিও কে এসএইও এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।  এর মাধ্যমে ইউটিউব বুঝে যায় আপনার বানানো ভিডিও টি কোন ধরনের।  এবং সেই ধরনের ভিডিও গুলো যারা ইউটিউবে দেখতে পছন্দ করে তাদের হোম পেজে বেশী বেশী ইম্প্রেসন করাতে থাকে।  


যখন ইম্প্রেসন বেশী শুরু হয় তখন ভিউ আসবে কিনা সেটা নির্ভর করে আপনার বানানো কাস্টম থাম্বেইলটি কতটা ইউনিক ও আকর্ষনীয় সেটার উপরে।  একজন ইউটিউবার কে সফল হতে হলে প্রতিটা বিষয়ের উপরে আলাদা ভাবে নজড় দিতে হয়।  

শেষ কথা 

ইউটিউবারদের জন্য এই অ্যাপ্লিকেশন টি খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি অ্যাপ্লিকেশন। ইউটিউব স্টুডিও অফিসিয়াল অ্যাপ্লিকেশনটি আপনার ইউটিউব চ্যানেল অল্প সময়ে মেইনটেইন করতে করতে পারবেন। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ অ্যানালাইটিক্স, কমেন্টের রিপ্লাই ও ভিডিওর থাম্বনেইল বসাতে বা পরিবর্তন করতে পারবেন। এবং আপনার ভিডিওর বিজ্ঞপ্তিগুলোর মনেটাইজ অন অফ করতে পারবেন। এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যাবহার করলে আরও অনেক সুবিধা পাবেন।

LihatTutupKomentar