এসএসসি ২০২২ পৌরনীতি ও নাগরিকতা ১১ তম সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান।
এসএসসি ২০২২ পৌরনীতি ও নাগরিকতা ১১ তম সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান।
নাগরিকের ধারণা : মানুষ সমাজে বাস করে। সমাজে বাস করা তার সহজাত প্রবৃত্তি। শাব্দিক অর্থে নগরের অধিবাসীকে নাগরিক বলে। পৌরনীতিতে নাগরিক শব্দের বিশেষ অর্থ রয়েছে। একটি রাষ্ট্রের সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ যে পরিচিতি, মর্যাদা,অধিকার পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে।
১। বুদ্ধি : সুনাগরিকের প্রধান গুণ হচ্ছে বুদ্ধি । কারণ একজন বুদ্ধিমান নাগরিক দেশের সম্পদ। কারণ বুদ্ধিমান নাগরিকই একমাত্র সব সমস্যার সমাধান করতে পারে।
৩। বিবেক : বিবেক হচ্ছে সুনাগরিকের মৌলিক সত্তা। বিবেকের জন্যই সুনাগরিক তার কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করে।
নাগরিকের অধিকার :
১। নৈতিক অধিকার : নৈতিক অধিকার বলতে সমাজের নৈতিকতা ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভুত অধিকারকে বোঝায়। যেমন ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান,দুঃস্থকে সাহায্য করা, অসুস্থকে সাহায্য করার অধিকার ইত্যাদি।
২। আইনগত অধিকার : আইনগত অধিকার বলতে বোঝায় যা রাষ্ট কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত। এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তির বিধান করে। যেমন জীবধারণের অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, পেশা গ্রহণের অধিকার ইত্যাদি।
৩. রাজনৈতিক অধিকার : রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকগণ। যে অধিকার ভোগ করে তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। রাজনৈতিক অধিকার
যেমন—ভোট দানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার, বসবাস করার অধিকার, সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার ইত্যাদি।
৪. ধর্মীয় অধিকার : ধর্মীয় অধিকার বলতে প্রত্যেক নাগরিকের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ, ধর্ম চর্চা এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের অধিকারকে বোঝায়।
নাগরিকের কর্তব্য
(১) সামাজিক কর্তব্য : সমাজ জীবনকে সুন্দর ও উন্নত করার জন্য সমাজের প্রতি মানুষের অফুরন্ত অনুষ্ঠান গঠন,কর্তব্য বিদ্যমান। সামাজিক অনুষ্ঠান পরিচালনা, সন্তানদেও শিক্ষিত ও মানুষ করে তোলা,সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি মেনে চলা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সামাজিক কর্তব্য।
(৩) অর্থনৈতিক কর্তব্য : উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি নাগরিকের কর্তব্য। নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা, শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করা অর্থনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
(৪) পরিবারের প্রতি কর্তব্য : পরিবারের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য কাজ করা নাগরিকের পরিবারের প্রতি কর্তব্য। সকলের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের শান্তি-শৃঙ্খলা ও
সংহতি পালন এবং পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করা নাগরিকের পারিবারিক কর্তব্য।
নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক :
অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ দুটোর অবস্থান পাশাপাশি। অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন করতে হয়। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কিছু কর্তব্য পালন করে।
অধিকার উপভোগ ও কর্তব্য পালনের মধ্যেই নাগরিক জীবনের পূর্ণতা। একমাত্র কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই অধিকার উপভোগ করা যায়। নাগরিক অধিকার বলতে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা বুঝায়।
যে সুযোগ-সুবিধা ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করতে পারে না। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার হচ্ছে নির্বাচনের অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সামাজিক অধিকার হচ্ছে শিক্ষার অধিকার,খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার ধর্মাচরণের অধিকার ইত্যাদি।
রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে। আইন মান্য করা, আনুগত্য প্রদর্শন করা,ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। অধিকার কর্তব্য দ্বারা সীমাবদ্ধ। অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। একটি ব্যতীত অপরটি ভোগ করা যায় না।
